Basic Idea About Lensball Photography Leave a comment

বর্তমানে ইয়ুথ জেনারেশনের কাছে ফটোগ্রাফি অত্যন্ত আকর্ষনীয় একটা বিষয়। বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে আপনি আপনার ফটোগ্রাফিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে পারেন। তেমনি একটা ফটোগ্রাফি ইকুইপমেন্ট হলো (Lensball) লেন্সবল। এগুলো সাধারনত ক্রিস্টাল গ্লাসের তৈরী। বাংলাদেশে SOURCE OF PRODUCT ই প্রথম লেন্স বল নিয়ে ব্যাপক পরিসরে কাজ করছে। আজ আমরা আলোচনা করব লেন্সবল ফটোগ্রাফি সম্পর্কে।



ক্রিস্টাল লেন্সবল দ্বারা ছবি তোলা হয় মূলত সাবজেক্ট এর রিফ্র্যাকশন। আপনাকে সাবজেক্ট এবং ক্যামেরার মাঝখানে লেন্সবল বসিয়ে সাবজেক্ট এর রিফ্র্যাকশন বা প্রতিসরন এর ছবি তুলতে হবে। এতে সাবজেক্টের ছবি উল্টো হয়ে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে রোটেট বা এডিটিং এর মাধ্যমে আপনার ফটোগ্রাফিকে সম্পূর্ন করতে পারবেন। লেন্সবল গুলি হ্যান্ডহেল্ড অবস্থায় বা অন্য কোথাও বসিয়ে ছবি তুলতে পারবেন। যদিও হ্যান্ডহেল্ড ছাড়া অন্য কোথাও লেন্সবলটি ছবি তোলার জন্য সঠিক জায়গায় বসানো অনেক কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার।

 

এবার জেনে নেওয়া যাক লেন্সবল এর সাইজ গুলো সম্পর্কে। ক্রিস্টাল লেন্সবল গুলো সাইজের দিক দিয়ে সাধারনত চার প্রকারের হয়ে থাকে। ৪০মিমি. , ৬০মিমি. , ৮০মিমি. এবং ১০০মিমি.। বিভিন্ন ধরণের ফটোগ্রাফির জন্য একেক সাইজের লেন্সবল উপযোগী।

 

ছোট লেন্সবলঃ ছোট সাইজের লেন্সবল বলতে মূলত ৪০মিমি. বা ৬০মিমি. লেন্সবলকে বুঝায়। এই বলগুলি প্যাক করার পক্ষে সবচেয়ে সহজ এবং অন্যান্য বলের তুলনায় বেশ হালকা। এগুলি আপনার ব্যাগের প্রায় কোন ওজন যোগ করে না এবং এই আকারটি ও ওজন আপনার আঙ্গুল এবং অঙ্গুষ্ঠের মধ্যে বল রাখা সহজ করে তোলে যা বড় মাপে আরো কঠিন হয়ে ওঠে।। এটির একটা দুর্বলতা রয়েছে। একবার একটি ভারী বল যে জায়গায় রাখা হয় এটি সাধারণত সেখানে থাকে। কিন্ত বাতাসের দিনে সহজেই একটি লাইটার বল গড়িয়ে সরে যাবে।আবার তাদের ছোট আকারের কারণে তারা প্যাক করা সহজ হবে, যা আপনাকে অন্যান্য আইটেমের জন্য আরো জায়গা দেবে। ছোট সাইজটি আপনাকে বলগুলিকে এমন স্থানগুলিতে রাখতে দেয় যেখানে বড় বলগুলি উপযুক্ত হবে না।

 

Photo Credit : Jannatul Ferdous Mouri

Photo Credit : Bishan Paul

মাঝারী লেন্সবলঃ মাঝারী লেন্সবল বলতে সাধারনত ৮০মিমি. লেন্সবলকে বুঝায়। অনেক আলোকচিত্রশিল্পী লেন্সবল ফটোগ্রাফির জন্য এটিকে আদর্শ আকার হিসাবে দেখে। এটি ওজনে সামান্য ভারী, কিন্তু সেটা noticeable নয়। এই লেন্সবল দ্বারা আপনার ফ্রেমের চমৎকার অংশটি একটি ম্যাক্রো লেন্স দিয়ে পূরণ করতে পারবেন।

বড় লেন্সবলঃ বড় আকারের লেন্সবল বলতে ১০০মিমি. ব্যাস এর ক্রিস্টালবলকে বুঝায়। যদিও এটা ওজনে অনেকটাই ভারী তবে লেন্সবল ফটোগ্রাফির জন্য বলটি চমৎকার। এর আকারের ফলে আপনি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সাবজেক্ট ফোকাস অনেক ভালো মানের পাবেন। এছাড়া প্রান্তের বিকৃতিগুলোও অনেক কম লক্ষনীয় হবে। হ্যান্ডহেল্ড অবস্থায় ছবি তোলার জন্য হাতের তালুতে রেখে তুলতে হবে। এর আকারের জন্য সব জায়গায় বসাতেও পারবেন না।



এবার জানাবো লেন্সবল ফটোগ্রাফির কিছু টিপস এবং কিভাবে আপনি লেন্সবলের মাধ্যমে চমৎকার কিছু ছবি ক্যাপচার করতে পারবেন।

লেন্স এর ব্যবহারঃ লেন্সবল ফটোগ্রাফি করার জন্য আপনি আপনার স্মার্টফোন বা DSLR এর ক্যামেরা বা সাধারন লেন্সগুলির সাথে অন্য কোন লেন্স ইউজ করতে পারেন। যেমনঃ আপনি যদি ছোট লেন্সবল দিয়ে আপনার ফটো ফ্রেমটি চমৎকার ভাবে পুরন করতে চান তাহলে এক্ষেত্রে আপনি ম্যাক্রো লেন্স ইউজ করতে পারেন। কিনবা লেন্সবল সহ ফটো ব্যাকগ্রাউন্ড বিস্তৃত আকারে নিতে চাইলে ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স ইউজ করতে পারেন।



ক্রিস্টালবল হোল্ডারঃ লেন্সবল নির্দিষ্ট স্থানে স্থিরভাবে বসিয়ে রাখা একটা ঝামেলাপূর্ন কাজ। এর আকার এবং মধ্যাকর্ষন শক্তির কারনে এটি স্থির থাকতে চায়না। এর জন্য আপনি ক্রিস্টাল বল হোল্ডার বা ট্রাইপড ইউজ করতে পারেন। অথবা এমন কোন জিনিস ব্যবহার করতে পারেন যার সাপোর্টে এটি স্থির হয়ে থাকতে পারে।



শাটার স্পীডঃ লেন্সবল ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে শাটার স্পীড গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লেন্সবল ফটোগ্রাফির জন্য আপনার ক্যামেরার শাটার স্পীড হাই রাখাই শ্রেয়। এর কারন হলো আপনি যদি হ্যান্ডহেল্ড অবস্থায় লেন্সবল দিয়ে ছবি নিতে চান এক্ষেত্রে হাতে ধরে রাখা লেন্সবল এবং ক্যামেরার কম্পন একটু বেশিই অনুভূত হয়। শাটার স্পীড হাই থাকলে কম্পনের কারনে ছবি নষ্ট হবেনা।

কম অ্যাপারচারঃ আপনি যদি লেন্সবল এর পাশাপাশি পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ড ছবির ফ্রেমে সংযুক্ত করতে চান তবে অ্যাপারচার কম রাখলে চমৎকার ছবি পেতে পারেন। এর কারন আমরা প্রথমেই জেনেছি লেন্সবলে সাবজেক্টের ছবি রিফ্র্যাকশন করে, যার ফলে সাবজেক্ট লেন্স বলে উলটো হয়ে ধরা পরে। আপনি যদি ছবিটিকে রোটেট করে নেন, তখন এর পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড উলটো হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাপারচার কম রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করে আপনি একটি চমৎকার ছবি ক্যাপচার করতে পারেন।


পানিতে লেন্সবলঃ পানির ওপরে লেন্সবল রেখে রিফ্র্যাকশন এবং রিফ্লেকশন দুটির মিশ্রনে অসাধারন একটি ফটো ফ্রেম পেতে পারেন। এর জন্য সমুদ্র সৈকত পারফেক্ট জায়গা। এসব ছবি তোলার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার না করলেও হয়। এতে আপনার ফটো ফ্রেমে অন্য মাত্রার সৌন্দর্য যোগ হয়। এছাড়া এই ধরনের ছবি তোলার জন্য আপনি ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স ইউজ করতে পারেন।

ফটো ইডিটঃ আপনার লেন্সবল দিয়ে তোলা ছবিগুলোকে বিভিন্ন ফটো ইডিটরের মাধ্যমে ইডিট করে চমৎকার একটা ফ্রেম তৈরী করে নিতে পারেন। এছাড়াও ছবিতে লাইটিং, রোটেট, কালার এডজাস্টিং, ব্লার ইফেক্ট ইত্যাদি ইডিট করে ফ্রেমটিতে আলাদা সৌন্দর্য এনে দিতে পারবেন।

লেন্সবল ইউজ করার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। লেন্সবলটিকে সবসময় ব্যবহারের আগে এবং পরে পরিষ্কার রাখুন। একটি পরিষ্কার লেন্সবল আপনার ছবির শার্পনেস অনেক ভালো দিবে। এবং লেন্সবলটি কোন জায়গায় বসানোর জন্য সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঠিকমত না বসলে বলটি গড়িয়ে পরতে পারে যা আপনার লেন্সবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সূর্যের আলোতে ব্যবহার করার সময় অনেক সতর্ক থাকতে হবে। ক্রিস্টাল বল সূর্য রশ্নিতে অনেকটা ম্যাগনিফাই গ্লাসের মত কাজ করে যা আগুন ধরিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সূর্য রশ্নিতে অনেক্ষন যাবত হ্যান্ডহেল্ড অবস্থায় ফটোগ্রাফি করা খুবই বিপদজ্জনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *